ব্রেইনের গোলটেবিল বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইউরোপ ও আফ্রিকায় বাণিজ্য বাড়ানোর তাগিদ

মার্কিন বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের প্রবেশে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ৩৭ শতাংশ শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।

মার্কিন বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের প্রবেশে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ৩৭ শতাংশ শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। তবে শুল্ক হ্রাস পেলেও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইউরোপ ও আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (ব্রেইন) আয়োজিত ‘‌ট্রাম্প ট্যারিফ-পরবর্তী বিশ্ববাণিজ্য ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে গতকাল এ কথা বলেন বক্তারা। ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াৎ সারোয়ারের সঞ্চালনায় বৈঠকে অংশ নেন শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ, কূটনৈতিক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিতে অনেক সম্ভাবনা, আশা, প্রত্যাশা রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কর্মসংস্থান কীভাবে তৈরি করব। কীভাবে সামাজিক খাতে ও গ্রামীণ পর্যায়ে ব্যয় বাড়ানো যাবে। এজন্য শিল্প খাতের বিস্তৃতি দরকার। পাশাপাশি বাণিজ্যিক পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। ট্রাম্পের ট্যারিফে কৌশলগত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কটা গুরুত্বপূর্ণ। ভূরাজনৈতিক এ নীতিতে বাংলাদেশ খুবই মূল্যবান। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপ ও আফ্রিকায় অর্থনৈতিক বিস্তৃতি বাড়াতে হবে।’

সরকারের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকলে এফডিআই আসবে না বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ জিয়া হাসান। তিনি বলেন, ‘‌আগামীতে যে সরকার আসবে, বেসরকারি খাতকে সুবিধা দিতে হবে। এখানে প্রধান কাজ সামাজিক সম্প্রীতি তৈরি, যেটা এ সরকার করতে ব্যর্থ হয়েছে।’

বাণিজ্যের জন্য ব্র্যান্ড ভ্যালু যুক্ত করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ ইস্রাফিল খসরু। তিনি বলেন, ‘‌তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের সবচেয়ে রফতানি খাত হলেও যুক্তরাষ্ট্র এটিকে মনে করে সস্তা বাজার। সে জন্য এ শিল্পের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দক্ষ জনগোষ্ঠী ও সম্পদ সৃষ্টি করতে হবে। এছাড়া পোশাক শিল্পের পাশাপাশি কৃষি, ওষুধ, চামড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, এখানে ভ্যালু যুক্ত করতে হবে।’

বিশ্ব বাণিজ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নীতি শক্তিশালী করতে হবে বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাডমাসের পরিচালক শামারুখ মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘‌এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর বাণিজ্যভাবে কিছু সুবিধা আমরা হারাব। সেটি মোকাবেলায় বাণিজ্য নীতি আরো শক্তিশালী করতে হবে।’

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের যথাযথ পদক্ষেপের ফলে মার্কিন শুল্ক ২০ শতাংশ নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘‌শুল্ক ইস্যুতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূস অত্যন্ত নিবিড়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সমাজকে চেনেন। দেশটির আর্থিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরও তিনি চেনেন। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, তিনি ট্রেড ভালো বোঝেন। তৃতীয় সুবিধা হলো, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, যিনি বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পাট রফতানিকারক। তিনি বৈশ্বিক বাজার ভালোভাবে চেনেন, মার্কিন বাজারও তার চেনা।’

তিনি আরো বলেন, ‘অনেকে বলতে চাচ্ছেন, আমাদের সরকারের অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু এ সরকার কিন্তু প্রথম থেকে একটি ভালো চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিল।’

আরও